‘শেখ হাসিনা আরেকবার ক্ষমতায় থাকবেন, এটা ডিসাইডেড’

বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্যের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তিনিই। তিনিই ড.কামাল হোসেনকে ঐক্যের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করেন। বিএনপিকে ত্যাগ স্বীকারের পরামর্শও তাঁরই। ড. মুহম্মদ ইউনূস। শান্তিতে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ। গ্রামীণ ব্যাংক ছেড়ে এখন ব্যস্ত সামাজিক ব্যবসা নিয়ে।

বর্তমান সরকারের ব্যাপারে তাঁর ক্ষোভ, আক্রোশ নতুন কিছু নয়। তাঁর উদ্যোগেই মার্কিন দূতাবাস তৎপর হয়েছিল ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে’র প্রশ্নে। কিন্তু গত এক মাস ধরেই ড. ইউনূস দেশে নেই। ড. ইউনূসের সর্বশেষ অবস্থান আর্জেন্টিনায়। যেখানে অলিম্পিক কমিটির সঙ্গে তিনি এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন। আর্জেন্টিনায় যুব অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যুব ক্রীড়াবিদদের উদ্যোক্তা বানাতে কাজ করবেন ড. ইউনূস। এটা তাঁর সামাজিক ব্যবসা কর্মসূচির একটি অংশ।

ড. ইউনূস আর্জেন্টিনায় উড়ে গেছেন জার্মানি থেকে। ৮ অক্টোবর জার্মান পূন:একত্রীকরণ দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন। এর দুই দিন আগে ইতালিতে তিনি দেখা করেন এফএও এর প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে। ড. ইউনূসের আগামী এক মাসের কর্মসূচির অধিকাংশই বিদেশে। অথচ কথা ছিল, ঐক্য প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার এক পর্যায়ে তিনি এতে যোগ দেবেন এবং নেতৃত্বও দেবেন।

ড. ইউনূসকে নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান হিসেবেই ভেবে রাখাও হয়েছিল। এ নিয়ে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল বলেও জানা যায়। কিন্তু এরপরই বিদেশমুখী হলেন ড. ইউনূস। ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠরা বলছে, ‘এই মুহূর্তে আন্দোলন, নির্বাচন বা অন্য কোনো উপায়ে আওয়ামী লীগকে হটানো সম্ভব না’- এ রকম অভিমত পোষণ করছেন ড. ইউনূস। এজন্য সরকারের সঙ্গে নতুন বিরোধে না জড়িয়ে বিদেশমুখী হয়েছেন তিনি।

বিদেশে যাবার আগে, গ্রামীণ ব্যাংক এবং তার সহ-প্রতিষ্ঠানের একান্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে দীর্ঘ আলাপ করেন ড. ইউনূস। তাঁদের বলেন, ‘এখন কিছু হবে না। শেখ হাসিনা আরেকবার থাকবে। এটা ডিসাইডেড। নির্বাচনের পরপর সব গোছাতে হবে।’ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ড. ইউনূস এই বার্তা ড. কামাল হোসেনকেও দিয়েছেন। এজন্যই ড. কামাল হোসেন শুরুতে বৃহত্তর ঐক্যের ব্যাপারে যতটা আগ্রহী ছিলেন, এখন ততটা আগ্রহী নন। ড. কামাল হোসেনকে বৃহত্তর ঐক্য নিয়ে নির্বাচনে যাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ড. ইউনূস আপাতত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকারই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সারাবিশ্বে ‘সামাজিক ব্যবসা‘বিস্তার ঘটাতে ব্যস্ত তিনি। সারাবিশ্বে বিভিন্ন বিষয়ে কথাবার্তা বললেও বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি নীরব।

সম্প্রতি ইতালিতে বিশ্ব খাদ্য সংস্থার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদনের ভূয়সী প্রশংসা করেন খাদ্য সংস্থার প্রধান। এসময় ড. ইউনূস নীরব ছিলেন। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন সরকারের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন ড. ইউনূস। ওয়ান-ইলেভেনের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ড. ইউনূসের সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এই সম্পর্ক তিক্ততার পর্যায়ে চলে যায় যখন, বয়স অতিক্রান্ত হওয়ার কারণে ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ড. ইউনূস পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধের জন্য বিশ্বব্যাংকে নালিশ করেন বলেও আওয়ামী লীগ সরকার অভিযোগ করে।–ভোরেরপাতা