নির্বাচনের পথে বিএনপি

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ২০ দলীয় ঐক্যজোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গুলশানে বিএনপি দলীয় চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে। ২০ দলীয় জোটের বৈঠকের পর পরই জাতীয় ও স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে তারেক রহমান টেলিফোনে সংযুক্ত হন। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, যদিও ৭ দফা দাবির কোনটাই অর্জিত হয়নি, বেগম খালেদার মুক্তির দাবিতেও সরকার অনড় অবস্থান নিয়েছে, তারপরও আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন তারেক রহমান।

তারেক রহমানের এ সিদ্ধান্তের পরেই বিএনপি নেতাদের অবস্থান পাল্টে যায়। যারা কিছুক্ষন আগেও নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থানে ছিলো, তারেক রহমানের নির্দেশের পর তাঁরা নির্বাচনের পক্ষে যাওয়ার নানা যুক্তি খুঁজতে শুরু করেছেন।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, তারেক রহমান চাইছেন বিএনপি মনোনয়নপত্র দাখিল করুক। দাখিলের পর তাঁরা পর্যবেক্ষণ করবে নির্বাচনে সরকার কতটুকু নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে। নির্বাচন কমিশন কতটুকু শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে। যদি শেষ পর্যন্ত বিএনপি দেখে, নির্বাচনে সরকার ও নির্বাচন কমিশন যথাযথ ভূমিকা পালন করছে না, সেক্ষেত্রে তাঁরা নির্বাচন বর্জনের পথে হাঁটবে। তাঁরা মনে করছে, তখন যে আন্দোলন হবে সেটি জোরালো হওয়া সম্ভব হবে।

তারেক তাঁর এই বার্তা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে পৌছে দিতে বলেছে। তবে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সদস্যরা মনে করছে, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার জন্য এটি খু্বই সংক্ষিপ্ত সময়। যে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, সেটা পিছিয়ে দেওয়া দরকার।

এদিকে বিকল্পধারা গতকাল রাতেই নির্বাচনের তফসিল ৭ দিন পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আজকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা আজ রাত থেকে জনসভা করবেন। জনসভার আগে পরে নিজেদের মধ্যে তাঁরা নির্বাচনের ব্যাপারে সলা-পরামর্শ সেরে নেবেন বলে বিভিন্ন সূত্রগুলো জানিয়েছে।