বল সাদ বিশ্ব আমীর, নইলে জানে মেরে ফেলব!

আমাদের মতো তোরাও স্বীকার কর, মাওলানা সাদ বিশ্ব আমীর, নইলে জানে মেরে ফেলবো’ এসব কথা বলেই গত ১ ডিসেম্বর সকালে গাজীপুরের টঙ্গীতে সংঘর্ষের আগে প্রতিপক্ষের লোকদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল বুধবার আমাদের সময়-এর কাছে এই অভিযোগ করেন হেলাল উদ্দিন সোহেল নামের ময়মমনসিংহের মুক্তাগাছার সীমান্তের রসুলপুরের বাসিন্দা। তিনি ওই দিনের হামলায় আহত হন।

ওই দিনের কথা বলতে গিয়ে হেলাল উদ্দিন সোহেল বলেন, ‘ওই কথা বলে ওরা (হামলাকারীরা) শিক্ষক-ছাত্রদের দুইকান ধরে বারবার ওঠবস করায়। এরপর আমাদের ব্যাগের ভিতর কুরআনসহ সামিয়ানায় আগুন ধরিয়ে দেয়, হিফজ শিখতে আসা শিশু মাদ্রাসার ছাত্রদের কহর দরিয়া (তুরাগ) নদীতে নিক্ষেপ করে উল্লাস প্রকাশ করে পাষণ্ডরা। আমাদের গণনবিদায়ী আর্তচিৎকারে টঙ্গীর আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠলেও পাষণ্ড সীমারদের বুক একটুও কাঁপেনি।’

হেলাল উদ্দিন দাবি করেন, ব্যাগের ভিতর থেকে লাঠি, চাপাতি, ছুরি, রড, পিস্তল বের করে দিল্লীর মাওলানা সাদের অনুসারীরা (বাহুতে কালো ও সবুজ ফিতা সংকেত পরে) নামাজরত এবং কুরআন তেলাওয়াতরত মাদ্রাসা শিক্ষক-ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়।

ঢাকার মিরপুর-১২ নম্বর সেক্টরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জামিয়া এমদাদীয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা হেলাল উদ্দিন সোহেলের মাথা ফাটায় সন্ত্রাসীরা। পরে সাতটি সেলাই দেওয়া হয়। এ ছাড়া তার হাত-পা রক্তাক্ত যখম হয় এবং সারা শরীরে আঘাত পান তিনি।

হেলাল উদ্দিন সোহেল অভিযোগ করেন, ওই মাদ্রসার ১০০ শিক্ষক-শিক্ষার্থী টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতির কাজে অংশ নিতে তিন দিনের জন্য এসেছিলেন। ওই দিন পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, ময়দানে তাদের ওপর কোনো হামলা হবে না। যদি হয় তাহলে তারাই হামলা প্রতিরোধ করবে। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টোটা। পুলিশের সামনেই তাদের ওপর হামলা করা হয়।

হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে গত ১ ডিসেম্বর টঙ্গীতে গিয়েছিলেন মুক্তাগাছার রসুলপুর গ্রামের হাফেজ রাজীবুল হাসান। পবিত্র কুরআন হিফজ শেষে হেলাল উদ্দিন যে মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন সেখানে ভর্তি হয় রাজীবুল। হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত রাজীবুলেরও মাথা ফাটিয়ে ফেলে সন্ত্রাসীর।

আটটি সেলাই দেওয়া হয়, হাত-পা রক্তাক্ত যখম করা হয় এবং সারা শরীরে আঘাত করে। তার গায়ের পাঞ্জাবীটি ছিড়ে টুকরা-টুকরা করে ফেলে। গায়ে জামাবিহীন হাসপাতালে চিকিৎসা এবং গ্রামের বাড়িতে ফিরতে হয় ইলেম শিখতে যাওয়া গরীব অসহায় রাজীবুলকে। পিতৃহারা রাজীবুলকে তার মামাসহ অন্যরা পড়ালেখায় সহযোগিতা করত।’

আরও কয়েকজনের ওপর হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ময়মনসিংহ শহরতলীর মধ্য বাড়েরার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন (৬৬) এবং মো. আবদুর রহিম কাকরাইলে এন্তজামের জামাতে গিয়েছিল একমাসের জন্য। ১ ডিসেম্বর সকালে বাড়িতে ফেরার কথা ছিল তাদের। ওইদিনেই আক্রমণের স্বীকার হন তারা। নরপশুদের হামলা থেকে বাঁচতে টয়লেটে গিয়ে পালালেও দরজা ভেঙ্গে বের করে তাদের সারা শরীরে আঘাত করে হাত-পা রক্তাক্ত যখম করে, পা ভেঙ্গে ফেলে।’