অভিভাবকদের জন্য সুখবর, চমক আসছে সরকারি প্রাথমিকে

শিশুদের কিন্ডারগার্টেন বিমুখ করতে এবং ৪ বছর বয়সীদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য অভিনব পরিকল্পনা করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০২০ সাল থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘নার্সারি’ শ্রেণি চালু করা হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, প্রথম শ্রেণির আগে আরও দুটি শ্রেণি চালু করা হবে। এর নাম ঠিক করতে এবং এর পাঠ্যক্রম তৈরির জন্য প্রাথমিক ও শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, একটি শিশু চার বছর বয়সে প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি হবে। নার্সারির আদলে একটি শ্রেণিতে সে পড়বে। এরপর পাঁচ বছরে ‘শিশু শ্রেণি’ বর্তমানে যা প্রাক-প্রাথমিক হিসেবে চালু আছে সেখানে পড়বে। শিশু শ্রেণির নামও পরিবর্তন হতে পারে। এরপর ছয় বছরে প্রথম শ্রেণিতে পড়বে।

শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৩৪ হাজার প্রতিষ্ঠানে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু রয়েছে। প্রাক-প্রাথমিকের জন্য রয়েছে পৃথক শিক্ষক।

প্রথম শ্রেণির নিচে আরও দুটি শ্রেণি চালুর জন্য প্রতিটি স্কুলে আরও একজন করে সহকারি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসামগ্রীর জন্য বছরে ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই অর্থ দ্বিগুণ করা হবে। বর্তমানে অভিভাবকরা তার সন্তানকে চার বছর বয়সে স্কুলে পাঠাতে চাইছেন। সরকারি প্রাথমিক স্কুলে এ ব্যবস্থা না থাকায় অভিভাবকরা তার সন্তানকে কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করেন।

প্রাথমিক স্কুলে চার বছর বয়সে ভর্তি করা গেলে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের আর কিন্ডারগার্টেনে পাঠাবেন না। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোও ভালোভাবে চলবে এমন ধারণা মন্ত্রণালয়ের। দেশজুড়ে কিন্ডারগার্টেনের রমরমা ব্যবসার কারণে অনেক ক্ষেত্রে ঝিমিয়ে পড়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। বাংলাদেশে মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৬০১টি।

সরকারি তালিকা অনুযায়ী কিন্ডারগার্টেন রয়েছে ২২ হাজারের বেশি। এসব কিন্ডারগার্টেন থেকে ৩ লাখ ৮৩ হাজার পরীক্ষার্থী এবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর বাইরে কয়েক হাজার কিন্ডারগার্টেন রয়েছে, যার কোনও অনুমোদন নেই।

দেশের কিন্ডারগার্টেনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১১ সালে নীতিমালা প্রণয়ন করে। এসব কিন্ডারগার্টেনকে নিবন্ধন নিতে বলা হয়। নীতিমালায় কিন্ডারগার্টেনগুলোকে ক্যাম্পাসে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, টয়লেট ব্যবস্থা, স্থায়ী অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ, জাতীয় দিবস পালনসহ বিভিন্ন নির্দেশনা রয়েছে।

এছাড়া স্থায়ী ও অস্থায়ী ক্যাম্পাসের ব্যাপারে দেওয়া হয়েছে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা। কোথাও একটি ফ্লোর, আবার কোথাও দুই থেকে তিনটি রুম ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম চলছে। এদের বেশিরভাগেরই নেই অভিজ্ঞ কোনো শিক্ষক। দেশি নামহীন বই পড়ানো হয় এসব স্কুলে।