হলিউডের ‘ঢাকা’ ছবিতে একমাত্র বাংলাদেশি, জানালেন অভিজ্ঞতা

ওয়ালিউল বিশ্বাসঃ ঢাকা ছবির কলাকুশলীরা। পাশে ক্রিসের সঙ্গে রাফায়েলবাংলাদেশের শহর ‘ঢাকা’ নিয়ে ব্যস্ত হলিউড তারকারা। যেখানে আছেন সুপারহিরো ক্রিস হেমসওর্থসহ ‘অ্যাভেঞ্জার্স’-

নির্মাতা-প্রযোজক জো রুশো ও অ্যান্থনি রুশো, গোলশিফতা ফারাহানি, ডেভিড হারবারের মতো চোখ ধাঁধানো তারকা। ‘ঢাকা’ নামের ছবিতে মূলত তারা কাজ করছেন। গত ৪ মাস ধরে শুটিং চলছে ভারত ও থাইল্যান্ডে।

এ ছবির প্রজেক্টে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে কাজ করে এলেন নির্মাতা রাফায়েল আহসান। ছবিতে তার কাজটি শেষ করে দেশে ফিরেছেন তিনি। এসেই জানালেন ছবির হালহকিকত—

‘ঢাকা’ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করছেন স্যাম হারগ্রেভ। যেখানে যুক্ত আছেন ক্রিস হেমসওর্থ, রণদ্বীপ হুদা, ডেভিড হারবার, জো রুশো ও অ্যান্থনি রুশোর মতো শিল্পী ও নির্মাতারা। আপনার যুক্ত হওয়া কীভাবে?

রাফায়েল আহসান: আমি মাস ছয়েক হলো নেটফ্লিক্স, বাংলাদেশে যোগ দিয়েছি। এ ছবিটি মূলত তাদের একটি প্রজেক্ট। এটির অংশ হিসেবে আমি ছবির টিমের সঙ্গে যুক্ত হই।

যেহেতু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ছবির গল্প, বাংলা সম্পর্কিত বিষয়গুলোও হয়তো এতে যুক্ত। এখানে আপনার ভূমিকাটা কী ছিল?
গোলশিফতার সঙ্গে রাফায়েল

রাফায়েল আহসান: এখানে আমি কোচ হিসেবে আছি। আবার ছবিতে বাংলা সংলাপও আছে। যেগুলো আমি রচনা করেছি। এছাড়া ক্রিস, রণবীর, হিমাংশু, ডেভিড হার্ববার্টসহ বেশ কয়েকজনের কোচ হিসেবে কাজ করেছি।

যতদূর জানি ভারতের আহমেদাবাদসহ চারটি জায়গা ও থাইল্যান্ডে ছবির কাজ হয়েছে। সেখানে ঢাকার বিষয়টি কীভাবে ফুটিয়ে তুললেন?

বাংলাদেশ থেকে আমরা অনেক জিনিস কিনে নিয়ে গিয়েছি। আমরা সেখানে রিকশা, সিএনজি, বাস সবই তৈরি করেছি। মূলত রিকশার জন্য পেইন্টগুলো, বাসের রঙ, সিট আর কিছু জিনিস ঢাকা থেকে কেনা হয়েছে। ভারতে প্রায় ৪৫০টি বাস ও অন্য গাড়ি কিনেছিলাম। সেগুলোতে ঢাকার গাড়ির আদল দেওয়া হয়।

গল্প ঢাকার কিন্তু শুটিং হলো বাংলাদেশের পাশের দেশে। ঢাকায় শুটিং না করার কারণ আসলে কী?

রাফায়েল আহসান: এখানে কয়েকটি কারণ আছে শুটিং করতে না চাওয়ার। প্রধান কারণ, আমরা যখন যে লোকেশনে কাজ করেছি, পুরো এলাকা দখল নিয়ে করেছি।

হলিউডের মুভি নির্মাতারা তো অনেক পারফেক্ট করতে চায়। খুঁটিনাটি অনেক কিছু নিয়ে কাজ করতে হয়। এত বড় অ্যারেঞ্জমেন্ট ঢাকায় করা সম্ভব নয়।

আমরা এ পর্যন্ত সাড়ে চারশ’ গাড়ি কিনেছি, শিল্পীদের জন্য ভ্যানিটিভান ছিল ৩০টি। এখন যদি আমরা শাহবাগে এই দৃশ্য করতে যাই, অবস্থাটা কেমন হবে? পুরো শহর অবরুদ্ধ হয়ে যাবে।

আবার আরও একটি বিষয়, তারা ধুলাযুক্ত জায়গায় শুটিং করেনি। ঢাকা শহরজুড়ে এখন কাজ চলছে, তাই এখানে এটা সম্ভব নয়।

আমি যখন এই টিমে যুক্ত হই, তখন আমাকেও এফবিআই’র ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়েছে। এখানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার বিষয় আছে। তারা এ ব্যাপারে কোনও ছাড় দিতে চান না। এত কিছু ঢাকায় সম্ভব হতো না।শুটিংয়ের একটি দৃশ্য- স্থান ভারতের আহমেদাবাদ, অথচ যানবাহনগুলো ঢাকার আদলে!

তারা কি ঢাকায় শুটিং করা নিয়ে আগে ভেবেছিল?

রাফায়েল আহসান: হ্যাঁ, গত বছর তারা ঢাকায় এসে সবকিছু বিশ্লেষণ করেছেন। তারপর বিকল্প জায়গা হিসেবে ভারতকে বেছে নেন।পরিচালকের কাছ থেকে দৃশ্য বুঝে নিচ্ছেন ক্রিস

এখানে গল্পটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রেক্ষাপট হিসেবে তারা কেন ঢাকাকে বেছে নিলেন?

রাফায়েল আহসান: দেখুন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রত্যেকটা এরিয়ার একটা ভাবমূর্তি আছে। বলা যায়, যা ম্যানিপুলেট করা। বাংলাদেশ ও ভারতকে বড় ড্রাগস জোন হিসেবে দেখানো হয়েছে। ছবিতে মূলত দুই দেশের মাফিয়া গ্রুপের দ্বৈরথ তুলে ধরা হয়েছে।

ভারতের মাফিয়া গ্রুপের প্রধানের ছেলেকে তুলে আনে ঢাকার মাফিয়া গ্রুপ। তাকে এখানে বন্দি করা রাখা হয়।

ছবিতে ক্রিস একজন স্পেশাল ফোর্সের এজেন্ট হিসেবে হাজির হয়েছেন। এখানে ইংরেজি, বাংলা, হিন্দিকে প্রধান্য দেওয়া হয়েছে।শুটিংয়ের কাজে রাফায়েল

ক্রিসও হেমসওর্থ তো তাহলে বাংলায় কথা বলবেন?

রাফায়েল আহসান: হ্যাঁ, তার প্রথম বাক্যটাই হবে বাংলা। চুক্তির কারণে হয়তো আমি সংলাপ বা বিস্তারিত বলতে পারবো না। তবে বাংলাদেশিদের জন্য বেশ ভালো চমক থাকবে।

ক্রিস হলিউডের সুপারহিরো। বড় তারকা। তার সঙ্গে আপনার দীর্ঘ সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছে। মানুষ হিসেবে তিনি কেমন?

রাফায়েল আহসান: অসাধারণ। তিনি এতো বেশি এনার্জিটিক, যা বলার নয়। সারা দিন কাজ করে আমরা যখন ক্লান্ত, তখন তিনি জিম শুরু করতেন। খুবই সুশৃঙ্খল একজন মানুষ। সবচেয়ে বড় কথা, বিশাল হৃদয়ের একজন মানুষ তিনি।

একটা উদাহরণ দিই, কোথাও শুটিংয়ে গেলে কাজের ফাঁকে অন্য তারকারা হয়তো শপিং বা ঘুরতে যান। কিন্তু ক্রিস সে সময়টাতে কোনও অনাথ আশ্রমে যেতেন। তাদের সঙ্গে সময় কাটাতেন। তিনি অনেক বড় মনের মানুষ।শুটিংয়ের ফাঁকে ক্রিস

চার মাসের জার্নি কেমন লাগল?

রাফায়েল আহসান: বাংলাদেশি হিসেবে খুবই ভালো লেগেছে। এতো বড় প্রজেক্টে একমাত্র আমিই বাংলাদেশি। ওরা আমার কাছ থেকে আমাদের কালচার জানছেন, শুনেছেন, আমাদের ভাষা বলার চেষ্টা করছেন।

এগুলো কিন্তু খুবই ভালো লাগার বিষয়। আবার তাদের কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। আমাদের এখানে আর্টিস্ট মানে অনেক বড় কিছু। অনেক পার্থক্য। কিন্তু ওখানে তা নেই। একজন জুনিয়র শিল্পী বা প্রোডাকশন বয়কেও শীর্ষ তারকাদের কাতারে দেখা হয়।

একইভাবে মূল্যায়ন করা হয়। একই সঙ্গে আমরা খাওয়া-দাওয়া করতাম। আমি সেখানে একজন কোচ। কিন্তু ক্রিসের মতো আমারও একটি ভ্যানিটি গাড়ি ছিল।