স্বামী-সন্তানের অধিকার পেতে শ্বশুর বাড়ির দরজায় অবস্থান: টাকায় মীমাংসা

টাকা দিয়ে সব সমস্যা মিটিয়ে ফেললেন ভোলার লালমোহনের ব্যবসায়ী কালিপদ বাবু। নির্ধারণ হল দিপ্তী ও তার সন্তানের ভবিষ্যৎ। দ্বিতীয় বিয়ে করার কারণে এখন দিপ্তীকে তালাক দিয়ে ভরণ পোষণের খরচ দিচ্ছেন উজ্জলের পিতা কালিপদ বাবু। স্বামী ও পিতার অধিকার না পেলেও দ্বিপ্তী ও সন্তানকে স্বীকার করে নিয়ে বৃহস্পতিবার (৭মার্চ) উভয় পক্ষের এক বৈঠকে বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠকে শিশুটির আগামী ৭ বছর পর্যন্ত যাবতীয় ভরণ পোষণ বাবদ ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং দিপ্তীর ভরন পোষণ বাবদ ৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোলা-৩ আসনের এমপি আলহাজ্ব নূরুন্নবী চৌধুরী শাওনের নির্দেশে লাদলমোহন থানায় বসে এ সিদ্ধান্ত দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রাসেলুর রহমান ও অফিসার ইনচার্জ মীর খাইরুল কবীর। এ সময় থানায় উজ্জলের পিতা কালিপদ বাবু, মামা রতন দাস, লালমোহন আড়ৎদার সমিতির সভাপতি মোখলেস বকসী ও সন্তান কোলে নিয়ে দিপ্তী উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, নিজ সন্তান কোলে নিয়ে শ্বশুর বাড়ির দরজায় অবস্থান নিয়েছে দিপ্তী রানী নামে এক গৃহবধূ। স্বামী ও সন্তানের অধিকার পেতে বুধবার (৬ মার্চ) সকালে শ্বশুর বাড়ির দরজায় অবস্থান নেন ওই গৃহবধূ।দিপ্তী ও উজ্জল নাটকের সূত্রপাত ২০১৭ সালের ৪ জুন থেকে। ওইদিন দিপ্তী সন্তান গর্ভে নিয়ে লম্পট উজ্জলের খোঁজে লালমোহন আসে। তারও আগে এক বছর পর্যন্ত উজ্জল দিপ্তীকে নিয়ে ঢাকার গাজিপুরে একসাথে সংসার করে। প্রতারক উজ্জল পরে পিতার চাপে দিপ্তীকে রেখে আত্মগোপন করে। শেষ পর্যন্ত দিপ্তী লালমোহন চলে আসে। কালিপদ বাবুর বাসার সামনে স্বীকৃতির দাবীতে অবস্থান করলেও কালিপদ বাবু তাকে স্বীকৃতি দেয়নি।

শেষ পর্যন্ত কালিপদ বাবুই দিপ্তীর বিরুদ্ধে ভোলা আদালতে মামলা করে প্রতারণার।আর ওই মামলায় আদালত উল্টো কালিপদ বাবুকে দিপ্তীকে ঘরে তুলে নিতে নির্দেশ দেন। কি আর করার, আদালতের নির্দেশে দিপ্তীকে ওই সময় ঘরে তুলে নেন তিনি। প্রতারক উজ্জল পালিয়ে কোলকাতায় আশ্রয় নিলে দিপ্তী সেখানে চলে যায়। কোলকাতায় সন্তান জন্ম হয়। সেখানে ৭ মাস একসাথে অবস্থান করে উজ্জল দিপ্তী। বেশ ভালোই চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু উজ্জল আবারো ভোল পাল্টায়। সন্তানসহ দিপ্তীকে রেখে পালিয়ে আসে লালমোহনে। গত সংসদ নির্বাচনের সময় প্রকাশ্য হয় সে। উজ্জলের পালিয়ে থাকার কারণে দিপ্তী সন্তান নিয়ে বুধবার লালমোহন আসে।