আকাশ মিতুর মোবাইলেই লুকিয়ে যত রহস্য!

কিন্তু মোবাইলটি উদ্ধারের পর সেই তথ্যের কিছুই পায়নি পুলিশ। যদিও ডা. আকাশের ফেসবুক থেকে ফাঁস করা অনেক তথ্য উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উদ্ধার করা ডা. মিতুর মোবাইলেও তেমন কোনো তথ্য নেই। এমনকি আকাশের আত্মহত্যার পর মিতুর ফেসবুক আইডিও ডিঅ্যাক্টিভ রয়েছে। যা নিয়ে গোলকধাঁধায় পড়েছেন বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার এসআই আবদুল কাদের।

তিনি বলেন, কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি আমরা। প্রথম প্রশ্ন-ডা. আকাশের মোবাইল থেকে ফেসবুকে দেয়া তথ্যসহ মিতুর শারীরিক সম্পর্কের অশ্লীল ছবি, মিতু ও তার মা-বোনের ভয়েস রেকর্ডগুলো ডিলিট করলো কে?

এমনকি মিতুর মোবাইল থেকেও সব তথ্য মুছে দেয়া হয়েছে। মিতুর ফেসবুক আইডিটাও ডিঅ্যাক্টিভ করলো কে? তার কোনো হদিস মিলছে না।

অথচ মামলার অভিযোগের স্বপক্ষে আকাশ ও মিতুর মোবাইলের সব তথ্য উদ্ধার করা জরুরি। ফলে এসব তথ্য উদ্ধারের জন্য তাদের মোবাইল সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ৩১শে জানুয়ারি ভোরে ডা. আকাশ আত্মহত্যার আগে ফোন পেয়ে নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক বি-ব্লকের ২ নম্বর সড়কের ২০ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলার বাসা থেকে গাড়িতে করে নিয়ে যান মিতুর বাবা আনিসুল হক চৌধুরী।

অথচ রাতে নগরীর নন্দনকাননে খালাতো ভাইয়ের বাসা থেকে মিতুকে আটক করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। আর মিতুর দেয়া তথ্যমতে তার মোবাইল উদ্ধার করা হয় নগরীর শাহ আমানত মাজার এলাকা থেকে।

ডা. আকাশের মোবাইল উদ্ধার করা হয় তাদের বাসা থেকে। তবে মোবাইলটি তার মা ও ভাই কেউ স্পর্শ করেনি বলে জানান তারা। আর এ ব্যাপারে মিতুকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। রিমান্ডে চার পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেন মিতু।

এসআই আবদুল কাদের বলেন, আকাশ যেদিন আত্মহত্যা করেছিল সেদিন কি কি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল, কি তাদের উদ্দেশ্য ছিল। মোবাইলের তথ্যগুলোই বা মুছে দিলো কে-এসব জানতে চেষ্টা করছেন তারা।

আকাশ ও তার স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে মুছে ফেলা ছবি, ভিডিও এবং এসএমএস পুনরুদ্ধারে মোবাইল সেট দুটি সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া ডা. আকাশের মৃত্যুর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি। চান্দগাঁও থানার ওসি আবুল বাশার বলেন, ৬ আসামির মধ্যে শুধু মিতুকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকিরা পলাতক।

তাই আকাশের আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে আনার উদ্যোগ নিচ্ছে পুলিশ। এর মধ্যে বেশিরভাগ আসামি আমেরিকায় অবস্থান করছে।

স্ত্রীর পরকীয়াকে দায়ী করে ১ ফেব্রুয়ারি আত্মহত্যা করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের তরুণ চিকিৎসক ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশ।

এ ঘটনায় আকাশের মা জমিরা খানম বাদী হয়ে মিতুসহ ৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন। বাকি ৫ আসামি হল- মিতুর মা শামীম শেলী, বাবা আনিসুল হক, বোন সানজিলা হক চৌধুরী আলিশা, মিতুর বয়ফ্রেন্ড আমেরিকা প্রবাসী প্যাটেল ও ডা. মাহবুবুল আলম।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন মিতু। পুলিশ মিতুর দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখছে।