এমন জানলে ছেলেকে নিউজিল্যান্ডে পাঠাতাম না

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লিদের ওপর বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে এ পর্যন্ত তিনজন বাংলাদেশির খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একজন নরসিংদীর পলাশ উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের জয়পুরা গ্রামের জাকারিয়া ভূঁইয়া। আড়াই বছর আগে কাজের সন্ধানে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান জাকারিয়া। বিদেশ যাওয়ার আগে বিয়ে করেন তিনি।

কিন্তু মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় স্বামীর মৃত্যুতে বিধবা হলেন জাকারিয়ার স্ত্রী। স্বামীকে হারিয়ে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আছেন নিহতের স্ত্রী রিনা বেগম। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে আশপাশের পরিবেশ।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংসারের সচ্ছলতা আনতে প্রায় আড়াই বছর আগে পলাশ উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের জয়পুরা গ্রামে আব্দুল বাতেন ভূঁইয়ার বড় ছেলে জাকারিয়া ভূঁইয়া নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান।

শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে যান তিনি। ওই মসজিদে হামলা চালান উগ্রপন্থী শেতাঙ্গ ব্রেন্টন ট্যারেন্ট। স্থানীয় সময় শুক্রবার জুমার নামাজের সময় এ হামলা চালানো হয়। এ সময় ব্রেন্টন ট্যারেন্টের গুলিতে জাকারিয়া ভূঁইয়া ও আরও দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ৪৯ জন নিহত হন। জাকারিয়া ভূঁইয়ার মৃত্যুর খবরে বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।

নিহত জাকারিয়া ভূঁইয়ার বাবা আব্দুল বাতেন ভূঁইয়া বলেন, সংসারে সচ্ছলতা আনতে আমার ছেলে বিদেশ যায়। এই যাওয়া যে শেষ যাওয়া হবে, তা বুঝিনি। এমন জানলে ছেলেকে বিদেশে পাঠাতাম না। ছেলেকে হারিয়ে আমি নিঃস্ব।

বাবার আব্দুল বাতেন ভূঁইয়া বলেন, ছেলে মারা গেলেও সঠিক খবর পেতে অনেক দেরি হয়েছে। সরকারের কাছে আমার দাবি একটাই, যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে আমার সন্তানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশের মাটিতে তাকে দাফন করতে চাই।

এদিকে, স্বামীকে হারিয়ে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় নিহতের স্ত্রী রিনা বেগম। বাকরুদ্ধ অবস্থায় জাকারিয়া ভূঁইয়ার মা। তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এর আগে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল নুর মসজিদসহ দুটি মসজিদে হামলার ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহতের খবর জানানো হয়। অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম সুফিউর রহমান দুই বাংলাদেশি নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। এরই মধ্যে জাকারিয়া ভূইয়া নিহতের খবর পাওয়া যায়।

নিহত অপর দুই বাংলাদেশি হলেন- ড. আব্দুস সামাদ ও হোসনে আরা। নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আব্দুস সামাদ। তবে হোসনে আরার বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।