দেনমোহরের দাবি নিয়ে ফিলিপাইনি তরুণী ঢাকায়

সিঙ্গাপুরে ২০১৪ সালে তাদের দেখা। এরপর একসময় বাংলাদেশি সালমানুল ইসলাম ও ফিলিপাইনের তরুণী এইমি গ্রাসি মার্ভালিয়াসের শুরু হয় প্রেম। কয়েক মাস পর এইমিকে বিয়ের প্রস্তাব দেন সালমান। পরে ২০১৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইসলামী রীতিতে বিয়ে করেন দু’জন।

এইমি জানান, বিয়ের আগে-পরে তার খরচে তারা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতমানসহ কয়েকটি দেশ ঘুরেছেন। বিয়ের দুই বছর পর সালমানের সঙ্গে বাংলাদেশেও আসেন এইমি।

সালামানের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায়। তার বাবার নাম গোলাম শিকদার। ঢাকায় তারা মিরপুর এলাকায় থাকেন।

এইমি বলেন, একসময় তিনি জানতে পারেন বাংলাদেশে সালমানের আরেক স্ত্রী আছে। এরপর গত বছরের ডিসেম্বরে আবার বাংলাদেশে আসে এইমি। বিয়ের দেনমোহর ও তালাকনামায় স্বাক্ষর নিয়ে ফিরে যেতে চান তিনি। কিন্তু দেনমোহরের দুই লাখ ৩৮ হাজার টাকা ও তালাকনামা দিতে অস্বীকৃতি জানান সালমান।

এইমি অভিযোগ করেন, প্রথমে ঢাকার মিরপুরে সালমানের বাসায় গেলে সেখান থেকে এইমিকে একটি হোটেলে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে দশ দিন আটকে রেখে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

হোটেল থেকে ছাড়া পেয়ে এইমি চট্টগ্রামে পরিচিত এক ফিলিপাইন পরিবারের কাছে চলে যান। সেখান থেকেই তালাকনামা ও দেনমোহরের টাকা আদায়ের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের জনপ্রিয় নাস ডেইলি গ্রুপে একটি পোস্ট করেন এইমি। সেখান থেকে মেয়েটিকে খুঁজে বের করে তার দাবি আদায়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন ফিলিপাইনে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মুনতাসীর মাহমুদ। তিনি বলেন, গত প্রায় চার মাস ধরে নিজের প্রাপ্য দাবি আদায়ের জন্য ঘুরছেন এইমি। এর মধ্যে মারধরেরও শিকার হয়েছেন, অনেক কষ্টে বাংলাদেশে থাকছেন। ইংরেজি ভালো না জানায় কারো সঙ্গে সেভাবে যোগাযোগও করতে পারছেন না।

মুনতাসীরের মাধ্যমে শনিবার এইমির সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন,‘ বাংলাদেশে থাকা স্ত্রীর সন্তান না হওয়ায় আমাকে বিয়ে করে সালমান। পাশাপাশি ফিলিপাইনে নিজের ব্যবসা শুরু করতে আমাকে ব্যবহার করতে চায় সে। কিন্তু আমি তার থেকে তালাক ও মোহরানা চাইলে তালবাহানা শুরু করে।’

এখন নতুন করে তার জীবন শুরু করতে চান এইমি। তিনি জানান, তালাকনামা না পাওয়ায় ফিলিপাইনে তাকে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এ কারণে চার মাস ধরে বাংলাদেশে পড়ে রয়েছেন। তালাকনামা ও মোহরানার টাকা আদায় করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম দৌড়াদৌড়ি করছেন।

এইমি ও সালমানের বিষয়ে সমাধান করতে গত ১৪ মার্চ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উইমেন সাপোর্ট ও ইনভেস্টিগেশন বিভাগে একটি বৈঠক হয়। এতে অভিযুক্ত সালমানুল ইসলাম ও এইমি গ্রাসি মার্ভালিয়াস উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মোহরানার দুই লাখ ৩৮ হাজার টাকা ও ফিলিপাইনে ফেরত যেতে বিমান টিকিটের খরচ চান এইমি। সব অভিযোগ ও দাবি মেনে নিয়ে চলতি মাসের মধ্যে মোহরানার টাকা বুঝিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএমপির উইমেন সাপোর্ট ও ইনভেস্টিগেশন বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নুসরাত জাহান মুক্তা জানান, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সহযোগিতায়দু’পক্ষ একটি সমঝোতায় এসেছে। ফিলিপাইনের ওই নারীর স্বামী টাকা দিতে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় চেয়েছেন। ওদিন মোহরানার টাকা ও অন্য দাবি আদায় শেষে তারা খোলা তালাকে সই করবেন।

এ বিষয়ে সালমানুল ইসলাম বলেন, ‘এটা সেটেল হয়ে গেছে। এসব বিষয়ে আর কথা বলতে চাচ্ছি না।’

সূত্র : মানবজমিন