প্রতিবেশীর মেয়ের সাথে প্রেম করায় ছেলেকে ১৯ দিন শিকলে বেঁধে রাখল বাবা

রংপুরের পীরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ সরেস চন্দ্রের হস্তক্ষেপে অবশেষে শিকলবন্দি অবস্থা থেকে ১৯ দিন পর মুক্তি পেল এনামুল হক মানিক। প্রেম করার অপরাধে তার বাবা একটি ঘরে পায়ে শিকল বেঁধে দরজায় তালা দিয়ে রেখেছিল তাকে। ঘটনাটি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের গন্ধর্র্বপুর গ্রামের।

পুলিশ ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলামের পুত্র মোঃ এনামুল হক মানিক পীরগঞ্জ শাহ আব্দুর রউফ কলেজের এইচএসসি’র ছাত্র। মানিকের সাথে পার্শ্ববতি বাড়ীর এসএসসি পরীক্ষার্থী এক মেয়ের প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে। বিষয়টি মানিকের পরিবার মেনে নিতে পারেনি। ফলে গত ৫ মার্চ থেকে মানিকের বাম পায়ে শিকল দিয়ে ঘরে তালা বদ্ধ করে রাখা হয়। খাওয়া দাওয়া ও প্রকৃতিক কাজ ঘরের মধ্যে সারতো হতো তাকে।

এ বিষয়টি জানাজানি হলে রবিবার দুপুরে এলাকাবাসি পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে মানিককে উদ্ধার করে। মানিকর বড় ভাইয়ের স্ত্রী লীনা বেগম জানান, প্রেম ঘটিত কারণে তার শ্বশুর মানিককে পায়ে শিকল দিয়ে ঘরে তালা বদ্ধ করে রেখেছিল। পুলিশ এসে মানিককে উদ্ধার করে।

ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম জানান, বাড়ির পাশে একজনের মেয়ের সাথে মানিকের প্রেম ছিল। মেয়েটি বিয়ের দাবিতে একদিন মানিকের বাসায় আসে। এ নিয়ে আমি দুই পরিবারের মাঝে আলোচনা করি যাতে ওদের দুজনের বিয়ে হয়। কিন্তু ছেলের বাবা বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। তাই অবাধ্য ছেলেকে শিকল দিয়ে আটকে রেখেছিল।

এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ থানার ওসি সরেস চন্দ্র জানান, আমরা খবর পাওয়ার পর পুলিশ পাঠিয়ে ছেলেটিকে উদ্ধার করেছি। এদিকে বিকালে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় ছেলের বাবা-ভাইকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে এস.আই মোসলেম উদ্দিন জানান।