গোলান মালভূমি নিয়ে জাতিসঙ্ঘে যাচ্ছেন এরদোগান

গোলান মালভূমিতে ইসরাইলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেয়ায় বিষয়টি জাতিসঙ্ঘে উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জেনেছে গোলান ইসরাইলের সার্বভৌম। তিনি বলেন, গোলান মালভূমিতে ইসরাইলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেয়া উচিত যুক্তরাষ্ট্রের। টুইটারে ট্রাম্প বলেন, ৫২ বছর পর গোলান মালভূমিতে ইসরাইলের সার্বভৌমত্বে স্বীকৃতি দেয়ার সময় এটিই। মালভূমিতে বর্তমানে ২০ হাজার অবৈধ দখলদার বসবাস করছেন। কাজেই এই দখলদারিত্ব কখনই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকৃতি দিতে পারে না।

এদিকে রোববার ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইল কাটস টুইটারে বলেন, গোলান মালভূমি ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি দিয়ে সোমবার স্বাক্ষর দেবেন ট্রাম্প, যখন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাথে ট্রাম্পের সাক্ষাৎ হবে।

ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনা ও নিন্দা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তুরস্ক, ফ্রান্সসহ অনেক দেশ রয়েছে। ১৯৬৭ সালে আরবদের সাথে ছয় দিনের যুদ্ধে সিরিয়ার গোলান মালভূমি দখল করে নেয় ইসরাইল। সেই সময় ইহুদিবাদী বাহিনী ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীর ও গাজা উপত্যকারও নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে ১৯৮১ সালে গোলান মালভূমিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ ভূখণ্ড বলে ঘোষণা দেয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহল কখনোই ইসরাইলের এই দাবির স্বীকৃতি দেয়নি।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ১৬ নভেম্বর শুক্রবার জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে গোলান মালভূমির মালিকানাসংক্রান্ত এক ভোটাভুটি হয়। সেখানে উপস্থিত ১৫৩ দেশের মধ্যে ১৫১ দেশ এ ভূখণ্ডের মালিকানা সিরিয়ার বলে স্বীকৃতি দেয়। শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরাইল প্রস্তাবটির বিপক্ষে অবস্থান নেয়। তা সত্ত্বেও গোলানবাসীর ওপর ৫২ বছর ধরে ইহুদিবাদী দখলদারিত্ব আর অত্যাচার একটুও কমেনি বরং বেড়েই চলছে। সূত্র: ডেইলি সাবাহ