মালয়েশিয়া প্রবাসী শ্রমিকদের ভিসার মেয়াদ বাড়ছে না

বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করেও ভিসার মেয়াদ বাড়াতে পারছে না মালয়েশিয়ায় বসবাসরত হাজারো শ্রমিক। এমনকি কাজ করতে গিয়ে আহত শ্রমিকরা পাচ্ছেন না কোন ক্ষতিপূরণও। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশি অভিবাসন এজেন্সি থেকে কোন রকম সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ এসব শ্রমিকদের। এ বিষয়ে বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি, বায়রা বলছে এ বিষয়ে তাদের কাছে কোন অভিযোগ আসেনি।

১৩টি রাজ্য এবং তিনটি ঐক্যবদ্ধ প্রদেশ নিয়ে গঠিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া। স্বাধীনতা লাভের পর জাতিগত ও ধর্মীয় বিভাজন দূর করে একটি আধুনিক রাষ্ট্রের পথে অনেকটাই এগিয়ে প্রায় তিন কোটি জনসংখ্যার আজকের মালয়েশিয়া।

বাংলাদেশি শ্রমিকরাই এখন মালয়শিয়ার মাটিতে যেন সব থেকে বেশি অবহেলিত। চুক্তিপত্র অনুযায়ী যে বেতন দেয়ার কথা তা ঠিক থাকছে না অনেক শ্রমিকেরই। কর্মঘণ্টার বেলাতেও অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। ওভারটাইমের টাকাও ঠিক মত পান না অনেক শ্রমিক। কারও কারও পাসপোর্টও থাকে না নিজের কাছে। এমনকি এই বিষয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কারও সাথে কথা বলাও নিষেধ।

দেশীয় শ্রমিক একজন বলেন, কন্ট্রাকে যে বেতন থাকে তা দেয় না। এছাড়া ৮ ঘণ্টার ডিউটি করায় ১২ ঘণ্টা। কোন ওভারটাইম নেই, নেই নিজের খাওয়া। মালয়েশিয়ার মাটিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের এই নাজেহাল অবস্থাসহ অ-সহযোগীতার জন্য অভিযোগ কিছু দেশিয় ও মালয়েশিয় এজেন্টের বিরুদ্ধে। দালালদের মাধ্যমে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য লাখ লাখ টাকা দিয়েও অপেক্ষা করতে হচ্ছে বছরের পর বছর।

বাংলাদেশ শ্রমিক রিক্রুটিং এজেন্সি বায়রা বলছে, কোন এজেন্সির বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক হয়রানির কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবে তারা।

বায়রা জেষ্ঠ্য সহ-সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ বলেন, ‘বায়রার কাছে অফিসিয়ালি কোন অভিযোগ নেই। গত দু’বছরে যে লোকগুলো গেছে, তারা দশটা রিক্রুটিংয়ের মাধ্যমে গেছে। তারাই বলতে পারবে তাদের কন্ট্রাক্টগুলোর অপব্যবহার হচ্ছে কিনা। এছাড়া আমাদের কাছে এমন অভিযোগ আসলে আমরা অবশ্যই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবো।’

অভিবাসন হযরানি কমাতে সরকার নির্ধারিত খরচেই ভবিষ্যতে মালয়েশিয়া সহ বিশ্বের যে কোন দেশে শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানায় এই সংগঠনটি।